চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় প্রাণ ফিরে পেল কালাচ সাপে কামড়ানো মৃতপ্রায় যুবক - The News Lion

চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় প্রাণ ফিরে পেল কালাচ সাপে কামড়ানো মৃতপ্রায় যুবক

 


দি নিউজ লায়ন;  প্রবাদে আছে ‘রাখে হরি তো মারে কে,ঠিক শেষ মুহূর্তে চিকিৎসকদের হাতে পড়তেই প্রাণ ফিরে পেল কালাচ সাপে কামড়ানো মৃত প্রায় এক যুবক সুব্রত মন্ডল।আর এমন সাফল্যের পিছনে ভুমিকা রয়েছে কুলতলি থানার পুলিশ অফিসার শুভময় দাস,ভিলেজ পুলিশ দুদালী মোল্লা,চিকিৎসক দিলীপ মন্ডল, ক্যানিং যুক্তিবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার সদস্য দেবাশীষ দত্ত,ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমরেন্দ্র নাথ রায়,সিসিইউ বিভাগের চিকিৎসক অনুপম হালদার, চিকিৎসক হাবিবুল্লা হালদার, জামতলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিএমওএইচ অয়ন্তিকা মন্ডল সহ অন্যান্যদের।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি থানার ঝিঙেখালি গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত মন্ডল।গত ৪ জুন দোকানের কাজকর্ম সেরে রাতে বাড়িতে ফিরে বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন।গভীর রাতে হঠাৎই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন সুব্রত মন্ডল।পরের দিন সে সোজা গ্রামেরই এক চিকিৎসকের কাছে যায় চিকিৎসার জন্য।সেখানে থেকে তাকে পাঠানো হয় জামতলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।সেখানে বিএমওএইচ ডাঃ অয়ন্তিকা মন্ডলের নেতৃত্বে তড়িঘড়ি ১০ টি এভিএস দিয়ে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় সাপে কাটা রোগী সুব্রত মন্ডলকে।


কুলতলি থানার ভিজেল পুলিশ দুদালী মোল্লা এবং রোগীর পরিবারের সদস্যরা প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সাপে কাটা রোগীকে নিয়ে ক্যানিং হাসপাতালে আসে।এদিকে সেই সময় রোগীর কোন ঞ্জান নেই।অচৈতন্য হয়ে পড়ে রয়েছে।এমনকি রোগী মারা গিয়েছে ধরে নিয়েই হাউ হাউ করে কাঁদতে থাকে রোগীর পরিবারের সদস্যরা এবং ভিলেজ পুলিশ।ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা দেখে প্রায় হাল ছেড়ে দেন চিকিৎসকরা।তবে সিসিইউ বিভাগের ডাঃ অনুপম হালদার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই রোগী কে নিজেদের ওয়ার্ডে নিয়ে যায়।অন্যদিকে হাল ছাড়তে নারাজ সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমরেন্দ্র নাথ রায়।এরপর শুরু হয় শেষ পর্যায়ের যমে মানুষের লড়াই।


রোগীর বুকে ক্রমাগত পাম্পিং করেন চিকিৎসকরা।দীর্ঘ প্রায় ৯৬ ঘন্টা পর ভেন্টিলেশন খুলে দেওয়া হয় ওই রোগীর।তবে আগামী সোমবার পর্যন্ত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ থাকবে সাপে কাটা রোগী সুব্রত মন্ডল।ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্প বিশেষঞ্জ চিকিৎসক সমরেন্দ্র নাথ রায় জানান কালাচ সাপে কামড় দিয়েছে বলে ওই রোগী জানতে পারেনি।তাই বুঝতে অসুবিধা হয়েছিল রোগীর সহ তার পরিবারের।শেষ মুহূর্তে পুলিশের তৎপরতায় ও  চিকিৎসকদের অনন্য ভূমিকায় ওই যুবক কে ৪০ টি এভিএস দেওয়ায় বাঁচানো গিয়েছে।আগামী সোমবার ওই রোগী কে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে।এদিকে সাপে কাটা রোগীর বাবা সনৎ মন্ডল ছেলের জীবন ফিরে পেয়ে বলেন ডাক্তার নয় ওঁরা ভগবান।মৃতপ্রায় ছেলে কে বাঁচিয়েছে।ওঁদের কে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.